Saturday, September 25, 2010

মালয়েশিয়ায় স্বপ্ন কেন সত্যি হয় না


সহায়-সম্পদ বিক্রি করে বৈধভাবে এসে আজ সর্বস্বান্ত হয়ে শত শত শ্রমিক মালয়েশিয়ায় জেলের ঘানি টানছেএদের অনেকের বৈধ ভিসা ও কাগজপত্র থাকার পরও এখন তারা বিচারের মুখোমুখিমালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন আইনে ওরা অপরাধীকারণ কোনও শ্রমিক চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি বা সেক্টর পরিবর্তন করলে তাকে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়কুয়ালালামপুরস্থ সুংগাই বুলো জেলখানা থেকে ডাকাতির মামলায় ৩ বছর পর বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত জনৈক বাংলাদেশী এ প্রতিবেদককে জানান, জেলে আটক বেশিরভাগ শ্রমিকই রয়েছে বৈধ ভিসাধারীউল্লিখিত অপরাধে তারা আটক রয়েছে এছাড়া রয়েছে ওভারস্টে হয়ে যাওয়া শ্রমিক, বৈধ কোনও কাগজপত্র না থাকা শ্রমিক, ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে চাকরিরত থাকা শ্রমিক ও জাল ভিসায় আটক শ্রমিকজাল ভিসায় আটক শ্রমিকরা নিজেরাও জানত না তার ভিসাটি জালএজেন্সিকে বিশ্বাস করে টাকা-পয়সা দিয়ে যে ভিসা সে করেছে সেই জাল ভিসা নিয়ে পথে বের হয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে বহু শ্রমিক এদেশের বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছেতাদের অনেকেই আবার দেশে যাওয়ার পথে এয়ারপোর্ট থেকে আটক হয়বিভিন্ন ক্যাটাগরির এই শ্রমিকদের সবাইকেই কমবেশি সাজা ভোগ করতে হচ্ছে এবং সাজা পেতে হবেমানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত সাজার মেয়াদ সাধারণত ৫/৬ মাস ধার্য করে থাকেনতবে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ শ্রমিককে আইনানুসারে ২টি করে বেত্রাঘাতও দেয়া হয়এরকম বহু শ্রমিক জেলে আটক রয়েছে, যারা আড়াই লাখ টাকা খরচ করে এসে ৫০ হাজার টাকাও দেশে পাঠাতে পারেনিঅথচ তার আগেই অবৈধ হয়ে জেলের ঘানি টানছেজেলের সাজা ভোগ শেষ হলে হতভাগ্যদের স্থান হবে

দুবাইতে বাঙালিদের অসহায় অবস্থা

আরব আমিরাতের দুবাইতে কাজ করে ৫ মাস থেকে বেতন না পাওয়াতে কর্মবিরতির করার অপরাধে কোম্পানীর মালিক ২৫ জন বাঙালি ওয়ার্ক পারমিট কার্ড ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে এখন শ্রমিকরা না পারছে আদালতের আশ্রয় নিতে। আবার না পারছে নিজের খাবার এর ব্যবস্থা করতে। একটি কন্সট্রাকশন কোম্পানী তাদের দিয়ে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে কোন বেতন ভাতা দিচ্ছেনা বলে শ্রমিকরা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমদিকে কর্মবিরতি পালন করে। প্রতারণা করে কোম্পানীর মালিক ওয়ার্ক পারমিট কার্ড নিয়ে যায়। এরপর তারা বেতন দিবেনা এবং ওয়ার্ক পারমিট কার্ডও দিবেনা বলে জানায়। এসব বাঙালি শ্রমিক বেতন না পাওয়াতে বাড়ি থেকে টাকা এনে খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোম্পানীর মালিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন।

এভাবে আমার দেশের শ্রমিকরা বিদেশে কত কষ্ট স্বীকার করে টাকা রোজগার করে থাকে। তাদের পাঠানো টাকা আমাদের দেশের কোন উন্নয়ন কাজে লাগানো হয় না। আমরা এখানে এগুলো নিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করি। আমরা জানি না তাদের আর কবে দেশে ফিরে আসা হবে। এতো কষ্টের মাঝেও তারা তাদের স্বজনদের মুখের হাসি দেখতে চায়। দেশের মানুষের কষ্ট, হাহাকার আর ক্ষুধা, দারিদ্র দেখতে চায় না।

Share

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites